ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে কর্মরত বেসামরিক কর্মীদের সংখ্যা ২০২৫ সালের ১ মার্চ নাগাদ ৩ লাখ ৫১ হাজারের বেশি বাড়তে পারে। ফলে সরকারের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি হতে পারে। সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটসংক্রান্ত নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
নথি অনুসারে, ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কর্মরত বেসামরিক কর্মীদের প্রকৃত সংখ্যা ৩৩ লাখের বেশি। এটি ২০২৫ সালের ১ মার্চ নাগাদ বেড়ে ৩৬ লাখ ৫৮ হাজার হতে পারে। ২০২৬ সালের ১ মার্চ নাগাদ তা সামান্য বেড়ে ৩৬ লাখ ৯৭ হাজারে পৌঁছতে পারে।
ভারতের রেল বিভাগে সবচেয়ে বেশি কর্মী কাজ করে। তবে এ বিভাগে কর্মীসংখ্যা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালের ১ মার্চ ভারতীয় রেলওয়ের কর্মীসংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৩৭ হাজার, যা চলতি বছরের ১ মার্চ নাগাদ কমে ১২ লাখ ৩৫ হাজার হতে পারে। ২০২৬ সালের ১ মার্চ তা বেড়ে ১২ লাখ ৩৯ হাজার হতে পারে।
ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীসংখ্যা বাড়লেও অনুমোদিত পদসংখ্যার তুলনায় কর্মরত কর্মীসংখ্যা এখনো কম। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসহ) অধীনে বেসামরিক কর্মীদের অনুমোদিত সংখ্যা ছিল ৪০ লাখের বেশি। কিন্তু কর্মীসংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৬২ হাজার। অর্থাৎ ২৪ শতাংশের মতো পদ শূন্য ছিল।
প্রতিবেদনে শূন্য পদ থাকার নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেরি হওয়াই অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া অবসর গ্রহণের অনুপাতে নতুন নিয়োগ হচ্ছে না এবং অনেক কাজ বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, তারা শূন্য পদ পূরণে সবসময় সচেষ্ট রয়েছে। বিশেষ করে জব ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
এদিকে নথিতে বলা হয়েছে, কর্মীদের বেতন বিল (যাতায়াত ভাতাসহ) সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী ৩ লাখ ৩৯ হাজার কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। এ খাতে পূর্ববর্তী বাজেট ছিল ৩ লাখ কোটি রুপি। পূর্বাভাস অনুসারে, পরবর্তী অর্থবছরে এটি আরো ৬ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে। অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ এখনো এ ব্যয়ের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কমিশনের নতুন সুপারিশ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে পারে।